গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশ ১৬৭ দেশের মধ্যে ৮৪ তম

ব্রিটেনের প্রভাবশালী অর্থনীতি ও রাজনীতি বিষয়ক পত্রিকা দ্য ইকোনমিস্ট-এর ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ডেমোক্রেসি ইনডেক্স-২০১৬ নামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।  অনলাইনে আজ ২৬ জানুয়ারি প্রকাশিত উক্ত প্রতিবেদনে ১৬৭ টি দেশের শাসন ব্যবস্থায় গণতন্ত্র কতটা বিরাজ করছে তার একটি মানচিত্র ভিত্তিক স্কোর গ্রাফ প্রদান করা হয়।  এতে ২০১৬ সালে ১৬৭ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪ তম নির্দেশ করা হয়েছে।  ইকোনমিস্ট তার প্রতিবেদনে দেশসমূহকে মোট চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে।  এগুলো হল- ফুল ডেমোক্রেসি বা পূর্ণ গণতন্ত্র, ফ্লড ডেমোক্রেসি বা দোষযুক্ত গণতন্ত্র, হাইব্রিড রিজাইম বা দোআঁশলা বা মিশ্র শাসনব্যবস্থা ও অথরিটারিয়ান রিজাইম বা কর্তৃত্বমূলক শাসনব্যবস্থা।  উক্ত চার ক্যাটাগরির মধ্যে বাংলাদেশে রঙ দিয়ে চিহ্নিত করে দোআঁশলা বা মিশ্র শাসনব্যবস্থার গণতন্ত্র প্রচলিত থাকার কথা বলা হয়।

এছাড়া মানচিত্র গ্রাফে ২০০৬ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত প্রত্যেকটি দেশের গণতন্ত্র কোন অবস্থায় রয়েছে তা চিত্রিত করা হয়েছে। এই গ্রাফে বাংলাদেশ অংশে দেখা যায় ২০০৬ সালে গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশে ফ্লড বা দোষযুক্ত ডেমোক্রেসি ছিল এবং স্কোর ছিল ৬.১১।  ২০০৮ সালে স্কোর ছিল ৫.৫২।  ২০১০ সালে ছিল ৫.৮৭।  ২০১১, ২০১২ এবং ২০১৩ সালে ছিল ৫.৮৬।  ২০১৪ সালে ছিল ৫.৭৮ এবং ২০১৫ সালে ৫.৭৩।  এবং ২০০৬ সাল বাদে বাকি সকল সময়ে বাংলাদেশে দোআঁশলা বা মিশ্র শাসনব্যবস্থা ছিল বলে সূচকে প্রদর্শন করা হয়।

উক্ত প্রতিবেদন সূচকে পার্শবর্তী দেশ ভারতে দোষযুক্ত গণতন্ত্র রয়েছে বলে নির্দেশ করা করা হয়। এছাড়া ভারতে ২০১৫ সাল থেকে ২০১৬ সালে গণতন্ত্র সূচকে অগ্রগতি ঘটেছে বলে দির্দেশ করা হয়।  পার্শবর্তী দেশ মিয়ানমারে ২০০৬ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কর্তৃত্বমূলক শাসনব্যবস্থা ছিল বলে নির্দেশ করা হয়েছে। তবে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে মিশ্র গণতন্ত্র কার্যকর ছিল বলা হলেও তাতে ২০১৬ সালে  স্কোর ছিল মাত্র ৪.২০ এবং ১৬৭ টি দেশের মধ্যে তার অবস্থান ১১৩ তম।  তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের মধ্যে শ্রী লংকার অবস্থান বাংলাদেশ থেকে ভাল হলেও ভূটান, পাকিস্তান ও নেপালের অবস্থান বাংলাদেশ থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

উক্ত প্রতিবেদনে সমাজতান্ত্রিক দেশ কিউবা, চায়না/চীন, ভিয়েতনামে কর্তৃত্বমূলক শাসনব্যবস্থা চালু থাকার কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি পড়তে ভিজিট করুন- ইকোনমিস্ট

Print Friendly

Post Comment