সাজেকে ৬৬৫ পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে জনসংহতি সমিতি

সাজেকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে জনসংহতি সমিতি

রাঙামাটির সাজেকে অসহায় ৬৬৫ পরিবারকে ২০কেজি করে মোট ১৩.৩ মেট্রিকটন(তের হাজার তিনশ’ কেজি) চাল সহায়তা দিয়েছে জনসংহতি সংহতি সমিতি ও সমর্থিত ছাত্র সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ। ‘মানবতার সেবা হোক আমাদের আদর্শ, সাজেকের দুর্ভিক্ষ কবলিত এলাকায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান’- এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে গত ৩১ মে ২০১৭ বুধবার জনংসহতি সমিতির নেতৃত্বে সাজেক ত্রাণ সহায়তা কমিটির ব্যানারে মাজালঙ বাজার(?) এলাকায় উক্ত সহায়তা প্রদান করা হয়। চাউল বিতরণের সময় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বাঘাইছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান বড়ঋষি চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির বাঘাইছড়ি থানা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ত্রিদীপ চাকমা, সাজেকইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জৈববোই তাং ত্রিপুরা, বাঘাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুনীল বিহারী চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিরস্টাফ সদস্য বাচ্চু চাকমা প্রমুখ।

সাজেকে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করছেন জনসংহতি সমিতি ও পিসিপি নেতৃবৃন্দ

এ সময় বাঘাইছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান বড় ঋষি চাকমা সাজেক এলাকার জনগণের সহযোগিতার জন্য যারা হাত বাড়িয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জুম্ম শিক্ষার্থী ও ঢাকা মহানগরের জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবার, সিলেটের মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যয়নরত জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবার, কাজী নজরুলইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবার, রাঙ্গামাটিতে জুম্ম শিক্ষার্থীবৃন্দ ও রাঙ্গামাটির সর্বস্তরের জনসাধারণ, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির তত্ত্বাবধানে রাঙ্গামাটিশহরের প্রতিটি এলাকা, রাঙ্গামাটি সদর থানাস্থ বালুখালী, মগবান, বন্দুকভাঙা, জীবতলী, সাপছড়ি ৫টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ প্রতিটি ইউনিয়নের জনসাধারণ এবংনান্যাচর উপজেলা হতে সাজেকের দুর্ভিক্ষ কবলিত এলাকায় ত্রাণ সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন।

তিনি বলেন, সাজেকের দুর্ভিক্ষ কবলিত জনগণকে মানবিক সহায়তা প্রদান করতে সকলকে এগিয়ে আসতে বলা হয়। সারা বাংলাদেশের জুম্ম শিক্ষার্থীরা সাজেকের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে মাসব্যাপী রাত-দিন কষ্ট করে দোর-টু-দোর গিয়ে এই চাউল সংগ্রহ করেছেন।

উল্লেখ্য যে, সাজেক এলাকায় জুম্ম অধিবাসীরা মূলত জুম চাষের উপর নির্ভরশীল। জুম চাষ করে বড়জোর তারা ৬ থেকে ৯ মাসের খাদ্য যোগাড় করতে পারে। বাকি ৩থেকে ৬ মাস তাদের মধ্যে খাদ্য সংকট বা দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। সাধারণত মার্চ-এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে এই খাদ্য সংকট জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত চলতে থাকে। সেপ্টেম্বরমাসের দিকে জুমের ধান পাকলে ধীরে ধীরে এই খাদ্য সংকট কেটে যায়। আরো উল্লেখ্য যে, গত বছর জুম চাষে তেমন ভালো ফসল হয়নি। ফলে জুমচাষীপরিবারগুলোতে ৩ মাস ধরে খাদ্য সংকট চলছে। সাজেকের কমপক্ষে ২৫টি দুর্গম গ্রামে আর্থিক অভাব দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে খাদ্যে।

ত্রাণ বিতরণের সময় আরো উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির বাঘাইছড়ি থানা কমিটির সহ-সভাপতি উৎপলাক্ষ চাকমা, জেএসএস বাঘাইছড়ি থানাকমিটির ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক শ্রী বুদ্ধাকর চাকমা ও দপ্তর সম্পাদক নয়ন জ্যোতি চাকমা।

বার্তা প্রেরক মণিশংকর চাকমা,সাংগঠনিক সম্পাদক,পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।

Print Friendly

Post Comment