খাগড়াছড়িতে সভা সমাবেশের উপর প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে অভিমত-মিঠুন চাকমা

গত ০৮ জুন খাগড়াছড়িতে জেলা প্রশাসন আইনশৃংখলা সভা আয়োজন করে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত জেলায় সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষনা করে। ছবি সৌজন্যঃ অনলাইন

[ লেখাটি গত ০৮ জুন মিঠুন চাকমা তার ফেসবুক ওয়ালে প্রকাশ করেন। বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে তা সিএইচটি২৪.কম ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হলো। ]

খাগড়াছড়ি জেলায় আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত প্রশাসন সভা সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বৃহস্পতিবার(০৮ জুন, ২০১৭) বিকালে এই খবরটি বিভিন্ন নিউজ ওয়েবসাইটে দেয়া হয়েছে।  দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়-

খাগড়াছড়িতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য ৩০ জুন পর্যন্ত অনুমতি ছাড়া সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো ওয়েবসাইট

জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. আলী আহমেদ খান, সদর জোন কমান্ডার জি এম সোহাগ, ৩২ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুজ্জামান চৌধুরী ও খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডারের প্রতিনিধি মেজর মাশফেকুর রহমানসহ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন বলে উক্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এখানে বলা প্রয়োজন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের উপর এই নিষেধাজ্ঞা একভাবে সাংবিধানিক অধিকারেরই লংঘন। দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকারী কোনো সচেতন জনগণই এটি মেনে নেবে না।

তবে এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে প্রশাসন এটা মেনে নিলো যে, খাগড়াছড়িতে সম্প্রতি যেভাবে সভা সমাবেশের উপর বলপ্রয়োগ করা হচ্ছিল তাতে প্রশাসন বিব্রতবোধ করেছে! একইসাথে আমরা দেখেছি, সম্প্রতি জেলায় সাম্প্রদায়িক উস্কানীও যেন বৃদ্ধি পাচ্ছিল। দৃষ্টিকটুভাবেই তা দৃষ্টিগ্রাহ্য রূপ নিচ্ছিল।

আমরা জানিনা এই নিষেধাজ্ঞার পরও এই দৃষ্টিকটু সাম্প্রদায়িক উস্কানী চলতে থাকবে কী না। তবে প্রশাসনের প্রতি ব্যক্তিগত অভিমত থাকবে, প্রশাসনকে আরো বেশি জনসম্পৃক্ত হতে হবে। দেখা যায়, প্রশাসনিক বৈঠকে পাহাড়ি প্রতিনিধি বা জনপ্রতিনিধিদের খুব কম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ভুল বোঝাবুঝি এড়ানোর জন্য এই দিকটিতে প্রশাসনকে নজর দেয়া দরকার বলে ব্যক্তিগত অভিমত।

জেলায় গণতান্ত্রিক বা সিভিল প্রশাসন সক্রিয়ভাবে কার্যকর থাকবে বলে আশা করি। এই বিষয়টির দিকে জোরালো চোখ না রাখলে নিপীড়ন, ধরপাকড়, আটক, শক্তিমত্তামূলক দমনপীড়ন, একপাক্ষিক ও আইনী মাত্রা বজায় না রেখে তল্লাশী চালানো হয়রানী করা হলে সভা সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞার পেছনে ভিন্ন কারণ খোঁজা তো খুবই সহজ ব্যাপারই হবে!
তাছাড়া এরই মধ্যে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অন্য ইস্যু এনে পার্বত্য জেলার স্বাভাবিক পরিবেশকে যে বিক্ষুব্ধ করে তোলা হবে না, তাও বা কে বলতে পারে!
সুতরাং, আপাতত এই নিষেধাজ্ঞার সাথে সাথে পাহাড়ি জনপ্রতিনিধি ও পেশাজীবি এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রয়োজন হলে পাহাড়ের রাজনৈতিক দলসমূহকে মতামত অভিমত প্রতিবাদ প্রকাশের ভিন্ন পন্থা সৃষ্টির উদযোগ করা প্রয়োজন।
নতুবা বাড়ির সকল দরজা জানালা বন্ধ করে রাখলে যে গুমোট পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে থাকে তা এড়ানো সহজ কথা হবে না।
জেলায় এখন নিয়মিত আছি এবং নিয়মিত কোর্ট হাজিরা দিয়ে আইনী বাধ্যবাধকতাকে মেনে যাবার সূত্রে সার্বিক চিন্তা করে এই মত, ব্যক্তিগত, প্রকাশ করলাম।

আবার মামলায় জড়ানো হলে তার রাজনীতিকীকরণ প্রভাবিত দিকটিকে বিবেচনায় রেখে সকল দিক বজায় রেখে মামলা মোকাবেলা করার ইচ্ছে থাকল! কী আর করা!
(আমার এই মত প্রকাশ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত চিন্তা সঞ্জাত)
ধন্যবাদ লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য

Print Friendly

Post Comment