বান্দরবানে ক্ষেতসহ জমি দখল করেছে এক প্রভাবশালী ভূমিদস্যু!

বান্দরবান অফিস, সিএইচটি২৪ডটকম,০৬.০৭.২০১৭
বান্দরবানে সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নে প্রভাবশালী এক ভূমিদস্যু  নিরীহ চারটি পাহাড়ি পরিবারের ফসল ক্ষেতসহ জমি বেদখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। ফলে ভূমি হারা হয়ে পড়েছে অসহায় চারটি পাহাড়ি পরিবার।

নিজ জমি থেকে উচ্ছেদ হওয়া চিংশৈনু মারমা জানান, জমি উদ্ধারের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকের বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, সুয়ালক ইউনিয়নে ৩১৪নং সুয়ালক মৌজায় হরিণ মারা এলাকায় চিংশৈ নু মারমা এর ৮৪নং খতিয়ানে ৪০শতক প্রথম শ্রেণির জমি, একই খতিয়ানে ক্যথোয়াই মগ এর নামে ১একর ১০শতক,নুমে মারমানী এর নামে ৬০শতক এবং আনুচিং মারমা গণের নামে ১একর১০শতক প্রথম শ্রেণির জমি বেদখল করে নিয়েছে বান্দরবানের প্রভাবশালী ভূমিদস্যু নজির আহম্মদ প্রকাশ ফান্টা নজিরা।
বর্গা চাষী সাবুকু নাহার (৩৫) অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, আমি দীর্ঘ ১৬বছর যাবত ¤্রানুচিং মারমা এর জমিতে বর্গা চাষী হিসেবে শান্তিপূর্ণভাবে চাষাবাদ করে আসছি। গত ২২শে মে ২০১৭ তারিখে সকাল বেলায় হঠাৎ ভূমি দখল করতে মহিলা পুলিশসহ দুই গাড়ি পুলিশ এবং হাতে ধারালো দা,লাঠি-সোটা নিয়ে ৫০ থেকে ৬০জন গুন্ডাবাহিনীকে নিয়ে আসেন বান্দরবানের জনৈক নজির আহম্মদ। তিনি বিনা নোটিশে সার্ভেয়ার মজিবুর রহমানের মাধ্যমে জোর করে পুলিশ ও তার নিজস্ব লোকজনের প্রহরায় জমিগুলো পরিমাপ করে বেদখল করে নিয়েছেন। আমরা অসহায়। আমার বর্গা নেয়া জমিতে শশা চাষ করেছি। শশা ক্ষেতে এখন আমি আর প্রবেশ করতে পারছিনা। এ কেমন আইন। জোর যার, মুল্লুক তার, প্রবাদটি সত্যিই বান্দরবানে প্রচলন আছে।
সাবুকু নাহারের বড় ছেলে মোহাম্মদ নাছির জানায়, আমাদের বর্গা চাষের জমিতে ফসল রয়েছে। শশাসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করা আছে। আমাদের শশা মাচাং এর নীচে জোর করে সব চারা রোপন করে দিয়েছে নজির আহম্মদ। আমরা এখন কী করব। তারা লাঠি-সোটা নিয়ে আসে মাঝে মধ্যেই। ভয়-ভীতি দেখায় আমাদের। তাদের ভয়ে জমিতে চাষ বন্ধ করে বসে আছি ঘরে। আমরা কি খাব।
স্থানীয় বাসিন্দা খিবো মারমা অভিযোগ করে বলেন, নজির আহম্মদ একজন ভূমিদস্যু, নিরীহ পাহাড়ি জমিগুলো চিহ্নিত করেই বিভিন্ন কলাকৌশলে কেড়ে নেয়ার অভ্যাস আছে তার। ভূমি দখলের অপতৎপরতা থেমে থাকেনা একদিনও। তাই অত্রালাকায় তাকে ননস্টপ নজিরা বলেও জানে।
অপর দিকে সুয়ালক ইউপি চেয়ারম্যান উক্যনু মারমা জানান, নজির আহম্মদ নিরীহ পাহাড়ি এর শশাক্ষেতসহ জমি বেদখল করে নিয়েছে। এলাকায় প্রভাব দেখিয়ে অনেক নিরীহ পাহাড়ির জমি জবর দখল করে নিয়েছেন।
নজির আহম্মদ এবিষয়ে বলেন, তার জমির কাগজ পত্র আছে। কাগজ-পত্রের মূলে জমি দখল নেয়া হয়েছে। তিনি তার কাছে এসে কাগজ-পত্র দেখে যেতে বলেছেন সাংবাদিকদের।
জমি দখলের সময় পরিমাপ করতে আসা জেলা প্রশাসনের সার্ভেয়া মুজিবুর রহমান জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশেই তিনি নজির আহম্মদের জমি পরিমাপ করে দিয়েছেন।

Print Friendly

Post Comment