রামগড়ে গত ৩০ জুন রাতে কী ঘটেছিল?- মিঠুন চাকমা

মিঠুন চাকমা

নিরাপদ জীবন যাপনের নিশ্চয়তা
ঘটনার পরদিন গ্রামে বাকহারা বসে আছেন ব্রতচন্দ্র কার্বারী পাড়ার সত্যরানী ত্রিপুরা

তারিখঃ ০২ জলাই, ২০১৭

ব্যক্তিগত কৈফিয়ত
৩০ জুন রাতে খাগড়াছড়ি জেলার রামগড়ে সংঘটিত একটি ঘটনা নিয়ে ফেসবুক বা সামাজিক গণমাধ্যম সরব ছিল। সাধারণভাবে আমি হঠাৎ সংঘটিত কোনো ঘটনার সাধারণ যাচাই বাছাই না করে কিছু বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করিনা। তাই সেদিন শুধু অন্যজনের স্ট্যাটাস পড়েছি।
পরদিন ফেসবুকের একজন বন্ধু, যিনি বাংলাদেশপ্রেস নামে একটি ওয়েবসাইট পরিচালানা করেন বলে জানি, তিনি এ বিষয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে কারোর কাছে কোনো তথ্য আছে কি না তা জানতে চান। তখন আমি আমার কাছে যা তথ্য ছিলো তা তাকে ইনবক্সের মাধ্যমে জানাই।
তিনি কী নামে উক্ত তথ্য প্রকাশ করবেন তা জানতে চাইলে আমি যেকোনো একজনের নাম ব্যবহার করতে বলি। তখন তিনি শিমু চাকমা শিমু নামটি ব্যবহার করেন। এখানে বলা দরকার শিমু চাকমা শিমু নামে বাস্তবে কোনো ব্যক্তি রয়ৈছেন কি না আমার জানা নেই।
তিনি আমার দেয়া তথ্য তার ওয়েবসাইটেেআপলোড করেন। পরে বেশ কয়েকঘন্টা পরে দেখি তার ওয়েবসাইট থেকে উক্ত কনটেন্ট ডিলিটেড করা হয়েছে বা তিনি তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। পরে আমি ইনবক্সে এ বিষয়ে তার কাছ থেকে জানতে চাই। তবে তিনি কোনো উত্তর দেননি।
এদিকে আমি সাধারণভাবে এই হঠাৎ ডিলিট করার এথিকসকে মেনে নিতে পারিনি! কারণ উক্ত তথ্যে গড়মিল থাকলে সে বিষয়ে তিনি নিজে আরো তথ্য সংগ্রহ করতে পারতেন অথবা আমার কাছ থেকে আরো জানতে চাইতে পারতেন।
যদি আমার দেয়া তথ্যে গড়মিল থেকে থাকে তবে তা আমি নিজেই সংশোধনের উদ্যোগ নিতাম, বা সংশোধনের জন্য অনুরোধ জানাতাম। তবে এরপর আরো বিভিন্ন ওয়েবসাইটে রামগড় ঘটনা বিষয়ে প্রতিবেদন পড়ার পরে বুঝতে পারলাম আমার দেয়া তথ্যের একটি বিষয়ে মাত্র দুইধরণের বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে। তথ্যটি হলো, পটকা না গুলি ফুটেছে তা নিয়ে। যেহেতু পরষ্পরের মধ্যে অবিশ্বাস রয়েছে, এবং ‘ইউপিডিএফ’কে নিয়ে অনেকের এলার্জি আছে, সুতরাং এ নিয়ে দই ধরণের বক্তব্য আসাটাই স্বাভাবিক ধরে নেয়া যায়।
তবে রামগড়ে যে একটি ‘ঘটনা’ ঘটেছে তা বোঝা যায় সেখানে গতকাল প্রশাসনের বিশেষ বৈঠক আয়োজনের মাধ্যমে,।
যাই হোক, যেহেতু আমি যে তথ্য রামগড় সম্পর্কে দিয়েছি তা শতভাগ সঠিক না হলেও মূল অংশ ঠিকই রয়েছে, তাই আমি তথ্যটি আবার এখানে শেয়ার করছি। ধন্যবাদ

রামগড়ে পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক উস্কানী সৃষ্টির চেষ্টা
তারিখঃ ০২ জুলাই, ২০১৭

রামগড়ে গত ৩০ জুন রাতে পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক উস্কানী সৃষ্টি করে পাহাড়ি গ্রামে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর প্রতিরোধ ও পুলিশ প্রশাসনের ভুমিকার কারণে তা ভন্ডুল হয়ে যায়। জানা গেছে রাত সোয়া দশটার দিকে রামগড় পৌরসভা ও সোনাই’আগা গ্রামের সীমানা বরাবর স্লুইশগেট এলাকায় ১০/১২ জন সেটলার দুষ্কৃতকারী প্রথমে নিজেরা দুইটি পটকা ফুটায়। এরপর তারা নিজেরাই চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দেয় এবং ‘শান্তিবাহিনী এসেছে, শান্তিবাহিনী হামলা করেছে বলে এলাকার সাধারণ সেটলারদের জড়ো করতে থাকে এবং উত্তেজিত করতে থাকে।
সদর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ারডের ইউপি মেম্বার মোঃ হোসাইন, সাবেক পৌর কমিশনার মোঃ জসীম, সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ নুরুন্নবী, মোঃ মিন্টু এ সময় উত্তেজিত সেটলারদের নেতৃত্ব দেয় বলে জানা গেছে।

তাদের উস্কানীতে শত শত সাধারণ সেটলার গ্রামবাসী একত্রিত হয়। এরপর তাদের মধ্যে নানা ধরণের গুজব ছড়ানো হয়। ‘শান্তিবাহিনীরা গুলি করেছে, ৪ জনকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে ইত্যাদি গুজব রটানো হয়। এতে সাধারণ সেটলারদের উগ্র অংশের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় তারা উত্তেজিত হয়ে পথের পাশের পাহাড়ি ঘরবাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। তারা নারায়ে তকবির আল্লাহু আকবর ও পাহাড়িদের ধর ধর বলে শ্লোগান দিতে দিতে সোনাই আগা পাহাড়ি জনগণের ঘরে হামলা চালাতে থাকে।
এ সময় তারা হাম্প্র ত্রিপুরা নামে সোনাই আগা গ্রামের একজনকে মারপিট করে বলে খবর পাওয়া গেছে।
চিৎকার চেঁচামেচি ও হঠাত গ্রামের মধ্যে শত শত বাঙালি সেটলার ঢুকে পড়ায় সোনাই আগা, ব্রত চন্দ্র কার্বারী পাড়ার পাহাড়ি সাধারণ জনগণের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। তারা তাদের বাড়িঘর থেকে পালিয়ে জংগলে আশ্রয় নেয়। কয়েকটি পরিবার বাংলাদেশ সীমানা পার হয়ে ভারতের দিকে পালিয়ে যায় বলে একটি সূত্র থেকে জানা গেছে।
সেটলারদের একটি অংশ এই ঘটনা সাজানো নাটক বুঝতে পেরে পরে নিজেদের বাড়িঘরে চলে যায়। তবে সেটলারদের
উত্তেজিত উগ্র অংশটি রাত দুইটা পর্যন্ত একত্রিত হয়ে থাকে। পরে পুলিশ এসে সেটলারদের সেখান থেকে চলে যেতে বলে। পরে তারা
উস্কানীমূলক শ্লোগান দিতে দিতে সেখান থেকে চলে যায়।
আরেকটি সূত্র থেকে জানা গেছে, পাহাড়ি জনগণ তাদের গ্রামে সেটলার বাঙালির সিএনজি ঢুকতে মানা করলে সেদিন রাতে তার প্রতিক্রিয়াস্বরূপ এই ঘটনা ঘটানো হয় বলে জানা গেছে।

Print Friendly

Post Comment